Showing posts with label রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(১৮৬১ - ১৯৪১). Show all posts
Showing posts with label রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(১৮৬১ - ১৯৪১). Show all posts

Monday, November 24, 2014

মাস্টারবাবু / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



আমি আজ কানাই মাস্টার,
           পোড়ো মোর বেড়াল ছানাটি।
আমি ওকে মারি নে মা বেত,
           মিছিমিছি বসি নিয়ে কাঠি।
রোজ রোজ দেরি করে আসে,
           পড়াতে দেয় না তো মন,
ডান পা তুলিয়ে তোলে হাই
           যত আমি বলি, 'শোন্, শোন্'
দিনরাত খেলা খেলা খেলা,
           লেখা পড়ায় ভারি অবহেলা।
আমি বলি ' ',
কেবল বলে 'মিয়োঁ' মিয়োঁ'


প্রথম ভাগের পাতা খুলে
           আমি ওরে বোঝাই মা, কত-
চুরি করে খাস্ নে কখনো,
           ভালো হোস্ গোপালের মতো।

যত বলি সব হয় মিছে,
           কথা যদি একটিও শোনে-
মাছ যদি দেখেছে কোথাও
           কিছুই থাকে না আর মনে।
চড়াই পাখির দেখা পেলে
           ছুটে যায় সব পড়া ফেলে।
যত বলি ' '
           দুষ্টুমি করে বলে 'মিয়োঁ'
আমি ওরে বলি বার বার
           'পড়ার সময় তুমি পোড়ো,-
তার পরে ছুটি হয়ে গেলে
           খেলার সময় খেলা কোরো'
ভালোমানুষের মতো থাকে,
           আড়ে আড়ে চায় মুখপানে,
এমনি সে ভান করে যেন
           যা বলি বুঝেছে তার মানে।
একটু সুযোগ বোঝে যেই
           কোথা যায় আর দেখা নেই।
আমি বলি ' ',

           কেবল বলে 'মিয়োঁ মিয়োঁ।

Tuesday, November 11, 2014

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি এ প্রভাতে রবির ক
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে উথলি উঠেছে বারি,
ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।

থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল
গরজি উঠিছে দারুণ রোষে।
হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায়
বাহিরিতে চায়, দেখিতে না পায় কোথায় কারার দ্বার।
কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন,
চারি দিকে তার বাঁধন কেন!
ভাঙ্ রে হৃদয়, ভাঙ্ রে বাঁধন,
সাধ্ রে আজিকে প্রাণের সাধন,
লহরীর পরে লহরী তুলিয়া
আঘাতের পরে আঘাত কর্।
মাতিয়া যখন উঠেছে পরান
কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ!
উথলি যখন উঠেছে বাসনা
জগতে তখন কিসের ডর!
আমি ঢালিব করুণাধারা,
আমি ভাঙিব পাষাণকারা,
আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া
আকুল পাগল-পারা।
কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া,
রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া,
রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরাণ ঢালি।
শিখর হইতে শিখরে ছুটিব,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব,
হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি।
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে, এত সাধ আছেপ্রাণ হয়ে আছে ভোর।।

কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
ওরে, চারিদেকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর
ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্।
ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি,
এসেছে রবির কর।।